April 15, 2026, 7:29 pm
শিরোনাম :
নওগাঁয় হৃদয়ময় আবহে নবান্ন উৎসব উদযাপিত নির্বাচন কমিশন ভাগাভাগি হয়ে গেছে: হাসনাত মিরপুরে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন চালক ফেডারেশনের পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত নওগাঁ পৌরসভার কাজী নজরুল শিক্ষানিলয়ে টাইফয়েড টীকাদান ক্যাম্প অনুষ্ঠিত ধামইরহাটে গরুবোঝাই ভটভটি উল্টে ২ ব্যবসায়ী নিহত, আহত ৭ জেব্রা ক্রসিং আঁকে দিল বন্ধুসভা, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতকরণে উদ্যোগ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শাহ সূফি হযরত মাঃ শেখ ইব্রাহিম (মাঃ জিঃ) নেতৃত্বে পবিত্র ঈদে মিলাদুন নবী সাঃ উপলক্ষে জশনে জুলুস ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত নওগাঁয় জাতীয় কন্যা শিশু দিবস পালন। নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন বিভাগ চালুর উদ্যোগ, ইউজিসির প্রস্তাবনা চাওয়া নওগাঁ সদরের হাঁসাইগাড়ী বিলে ফুটে আছে গোলাপি রঙের পদ্ম ফুল

নওগাঁ সদরের হাঁসাইগাড়ী বিলে ফুটে আছে গোলাপি রঙের পদ্ম ফুল

Reporter Name

নওগাঁ সদরের হাঁসাইগাড়ী বিলে ফুটে আছে গোলাপি রঙের পদ্ম ফুল

ছোট যমুনা নদীর তীর ঘেঁষে হাঁসাইগাড়ী বিল স্থানীয়দের কাছে দীর্ঘদিন ধরেই ‘নওগাঁর মিনি কক্সবাজার’ নামে পরিচিত। বিলটি এখন পদ্মবিলে পরিণত হয়েছে। পদ্মের শোভা মুগ্ধ করছে সবাইকে। দল বেঁধে দর্শনার্থীরা ঘুরে বেড়াচ্ছেন পদ্মবিলে। কেউ কেউ তুলে নিচ্ছেন দু-একটা পদ্ম ফুল।

নওগাঁ সদর উপজেলার দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তে হাঁসাইগাড়ী ও শিকারপুর ইউনিয়নকে সংযুক্ত করেছে বিস্তৃত এই জলরাশি। এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একসময় হাঁসাইগাড়ী বিলে প্রায় সারা বছর পানি থাকত। মাছও পাওয়া যেত প্রচুর। বিলজুড়ে ফুটত পদ্ম ও শাপলা ফুল। তবে এখন বছরে পাঁচ থেকে ছয় মাস পুরো বিলে পানি থাকে।

 

বছরের অন্য সময় বিলের প্রায় ৯০ শতাংশ অংশই শুকিয়ে যায়। বিলের শুকিয়ে যাওয়া অংশে স্থানীয়রা ধানসহ বিভিন্ন ফসল আবাদ করে থাকেন। যেসব অংশে পানি থাকে, সেখানে মাছ চাষ করা হয়। বিলে ফসল আবাদ ও মাছ চাষের কারণে পদ্ম ও শাপলাসহ বিভিন্ন জলজ গাছ বিলীন হয়ে যেতে বসেছে।

বিলের প্রায় ২০০ বিঘাজুড়ে ফুটেছে পদ্ম ফুল
বিলের প্রায় ২০০ বিঘাজুড়ে ফুটেছে পদ্ম ফুলছবি: প্রথম আলো
সম্প্রতি হাঁসাইগাড়ী বিলে দেখা যায়, এবার বিলের পূর্ব অংশে শিকারপুর ইউনিয়নের খামারবাড়ী মোড় এলাকায় প্রায় ২০০ বিঘাজুড়ে ফুটেছে গোলাপি রঙের পদ্ম ফুল। বিলের পূর্ব অংশ পরিচিতি পেয়েছে পদ্মবিল হিসেবে। পদ্মবিলের সৌন্দর্য দেখতে প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে আসছেন দর্শনার্থীরা।

বিলের মাঝ দিয়ে চলে গেছে পাকা সড়ক। সড়কের দুই ধারে রয়েছে বেশ কয়েকটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা। এগুলো দিয়ে ফুলপ্রেমীদের বিলে ঘুরিয়ে আনা হয়। এক নৌকায় ২০০ থেকে ৩০০ টাকায় এক ঘণ্টা ঘুরে বেড়ানো যায়। নৌকায় ৮ থেকে ১০ জন মানুষ উঠতে পারেন। স্থানীয় অনেকেই নৌকা চালিয়ে অর্থ উপার্জন করতে পারছেন।

বিলের পদ্ম দেখতে ভিড় করেন দর্শনার্থীরা
বিলের পদ্ম দেখতে ভিড় করেন দর্শনার্থীরাছবি: প্রথম আলো
উপজেলার শিকারপুর গ্রামের গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘পদ্মফুল সারা বছর থাকে না। শুধু বর্ষাকালেই দেখা যায় এ ফুল। আগে বিলজুড়েই পদ্মফুল ফুটত। মাছ চাষে অসুবিধা হয়, এ কারণে পদ্ম, শাপলা, সিঙ্গারসহ পানির নিচে থাকা বিভিন্ন গাছ তুলে ফেলেন মাছচাষিরা। এ জন্য এখন বিলে খুব কম পদ্মফুল ফোটে। এবার বিলের পূর্ব অংশে কিছু পদ্মফুল ফুটেছে। এই ফুল দেখতে প্রতিদিন বহু মানুষ আসছেন।’

পদ্মফুলের সৌন্দর্য ছাড়াও হাঁসাইগাড়ীর বিশাল জলরাশি দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। গত শনিবার বিকেলে নওগাঁ শহরের পার-নওগাঁ এলাকার বাসিন্দা আরিফুল ইসলাম তাঁর কয়েক বন্ধুকে নিয়ে হাঁসাইগাড়ী বিলে বেড়াতে এসেছিলেন। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘পদ্মফুল এখন অনেকটা বিরল। বর্ষা মৌসুম ছাড়া এই ফুল ফোটে না। প্রতিবছর এই সময়টায় হাঁসাইগাড়ী বিলে পদ্মফুল ফোটে। বিলে যত দিন ফুল থাকে, তত দিন সপ্তাহে অন্তত একবার বিলে ঘুরতে আসি। বন্ধুবান্ধব ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে আসি। পদ্মের সৌন্দর্য আমাকে মুগ্ধ করে।’

পদ্মফুল সারা বছর থাকে না। শুধু বর্ষাকালেই দেখা যায় এ ফুল
পদ্মফুল সারা বছর থাকে না। শুধু বর্ষাকালেই দেখা যায় এ ফুলছবি: প্রথম আলো
নওগাঁ শহর থেকে হাঁসাইগাড়ী বিলের দূরত্ব প্রায় ১০-১১ কিলোমিটার। শহরের গোস্তহাটির মোড় থেকে স্থানীয় যানবাহনে খুব সহজেই পৌঁছে যাওয়া যায়। আঁকাবাঁকা ডুবো সড়কের এক পাশে চঞ্চল জল, অন্য পাশে কৃষিভূমি-সৌন্দর্য বাড়িয়ে দেয়। বিলের মাঝ দিয়ে চলে যাওয়া শিকারপুরের খামারবাড়ী মোড় থেকে হাঁসাইগাড়ীর কাটখৈইর বাজার পর্যন্ত প্রায় ছয় কিলোমিটার সড়ক স্থানীয় যোগাযোগ যেমন বদলে দিয়েছে, সেই সঙ্গে খুলেছে পর্যটনের নতুন দুয়ার


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা